পরিবার নিয়ে ঘুরতে যাবেন,কোথায় থাকবেন কি করবেন?

বাংলাদেশে রয়েছে চোখে পড়ার মতো মন মাতানো,প্রশান্তিময় পর্যটন স্পট ,যেমন পাহাড় বন- বনানী, নদীতে নৌকা ভ্রমণ, সবুজের মাঝে চাঁদের আলো খেলা, সমুদ্র তরঙ্গের মাতামাতি , এমনকি মেঘের রাজ্যে হারিয়ে যাওয়া। অপরূপ সৌন্দর্যের এই দেশের প্রায় প্রতিটি জেলাতেই রয়েছে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। এ কারণে প্রতি বছর দেশ -বিদেশের অনেক পর্যটক বাংলাদেশে বেড়াতে আসেন। কাজের একঘেয়েমি থেকে একটি ছোট বিরতি নিন।যেখানে মন চায় সেখানে পরিবারের সাথে ঘুরে আসুন। কিন্তু আপনি কোথাও যাওয়ার আগে এই টিপসগুলি অনুসরণ করুন দেখবেন আপনার ভ্রমণ আরও উপভোগ্য হয়ে উঠবে।

কোথায় যাবেন?

ভ্রমণে যাওয়ার আগে আপনাকে প্রথমে ভাবতে হবে কোথায় যেতে হবে? কোথায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় যে বিষয়গুলো মনে রাখতে হবে।

  • আপনি কত সময়ের জন্য ভ্রমণ করতে যাচ্ছেন?
  • আপনার বাজেট কত?
  • সমুদ্র, পাহাড়, বন, হাওর, নদী, ঠিক কোন জায়গা আপনার বেশি পছন্দ?
  • কাকে সাথে নিয়ে যাবেন?
  • আপনি যেখানেই যান, সেখানকার সুযোগ সুবিধা কেমন?

এই বিষয়গুলি সম্পর্কে চিন্তা করলে আপনার কোথায় যাওয়া উচিত।

হ্যাঁ ভ্রমণে যাবেন? কোথায় যাবেন?

নিচের দর্শনীয় স্থানগুলোর ব্যাপারে ভাবতে পারেন।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি আমাদের চির সবুজ বাংলাদেশ। এদেশে রয়েছে অসংখ্য দর্শনীয় স্থান। বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ এই সৌন্দর্য দেখতে ছুটে আসেন। জেনে নিন দেশের সেরা কয়েকটি দর্শীয় স্থান সম্পর্কে।

Coxs Bazar

কক্সবাজার:

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত বিশ্বের সেরা সমুদ্র সৈকত। পাহাড়ঘেরা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত পৃথিবীর দীর্ঘতম প্রাকৃতিক বালুকাময় সমুদ্র সৈকত। কক্সবাজার ভ্রমণকারীদের জন্য একটি আদর্শ স্থান। এছাড়াও, এখানে অনেক প্রাচীন স্থাপনা রয়েছে।

সেন্ট মার্টিন:

সেন্ট মার্টিন বিশ্বের বৃহত্তম প্রবাল দ্বীপগুলির মধ্যে একটি। সেন্ট মার্টিন একটি চমৎকার জায়গা। সেন্ট মার্টিন দ্বীপ নারকেল গাছের জন্য বিখ্যাত। এখানে আপনি মাছ ধরা সহ বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণীর সাথে বিনোদন করতে পারেন।

St. Martin Island
Rangamati

রাঙামাটি:

পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি জেলা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। ছোট জেলা শহর কাপ্তাই লেকের চারপাশে বিস্তৃত স্থান। বছরের বিভিন্ন সময়ে এখানকার স্থানগুলোকে ভিন্নভাবে সজ্জিত করা হয়। যাইহোক, সেখানে বৃষ্টির খেলা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

খাগড়াছড়ি:

সৃষ্টিকর্তা খাগড়াছড়িকে অপার সৌন্দর্যে সাজিয়েছেন। এটি মিতালি, চেঙ্গি এবং মাইনি উপত্যকার বিস্তীর্ণ সমভূমি এবং উপজাতীয় সংস্কৃতির বৈচিত্র্যের আবাসস্থল। যেদিকে চোখ যায় সেদিকে শুধুই সবুজ আর সবুজ। এটি ভ্রমণকারীদের জন্য আদর্শ স্থান।

Khagrachari
Sundarbans

সুন্দরবন:

সুন্দরবন পৃথিবীর অন্যতম ম্যানগ্রোভ বন। সারা পৃথিবী থেকে অনেক পর্যটক সুন্দরবন দেখতে আসেন। দেশ -বিদেশের আশ্চর্যজনক ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট পর্যটকরা প্রতিদিন সুন্দরবনের এই জোয়ারের বন দেখতে ভিড় করেন। আপনি এই জায়গায় অনেক জীবন্ত প্রাণী দেখতে পারেন।

সিলেট:

বাংলাদেশের কয়েকটি চা বাগানের মধ্যে সিলেট অন্যতম। সিলেট চায়ের রং, স্বাদ এবং সুবাস অতুলনীয়। সিলেটের জাফলং রূপকথা হিসেবে সারা দেশে পরিচিত।

Sylhet
Bisnakandi

বিছানাকান্দি:

সিলেট একটি পর্যটন স্বর্গ। দেশের সীমানা সীমানা পাথরের বিছানা এবং মেঘালয় পাহাড় থেকে আসা ঠান্ডা জল। পাশেই পাহাড়ি সবুজের সমারোহ। ছোট-বড় পাথরের ওপর দিয়ে স্বচ্ছ পানির স্রোত বয়ে যাওয়ায় মনোরম পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বিছানাকান্দিতে।

সাজেক:

এটি রাঙ্গামাটিতে অবস্থিত হলেও আপনাকে যেতে হবে খাগড়াছড়ি দিয়ে। খাগড়াছড়ি শহর থেকে দীঘিনালা, তারপর বাঘাইহাট হয়ে সাজেক। পুরো রাস্তাটি অসাধারণ, আশেপাশের দৃশ্যও সুন্দর। রাস্তার দুপাশে লাল-সবুজ বাড়ি আর পাহাড়ের ভাঁজে মেঘের মেলা।

Sajek Valley
Nilachal

নীলাচল ও শুভ্রনীল :

বান্দরবান জেলার প্রবেশমুখেই অবস্থিত। ১৭০০ ফুট উচ্চতার এই পর্যটনস্থানগুলোতে সবসময়ই মেঘের খেলা চলে। এ পাহাড়ের ওপর নির্মিত এ দুটি পর্যটনকেন্দ্র থেকে পার্শ্ববর্তী এলাকার দৃশ্য দেখতে খুবই মনোরম।

তেঁতুলিয়া:

তেঁতুলিয়া বাংলাদেশের সবচেয়ে উত্তরের উপজেলা হিমালয় সীমান্তবর্তী। সমতল চা বাগান, তেঁতুলিয়া পোস্ট বাংলো, তেঁতুলিয়া পিকনিক কর্নার, বাংলাবান্ধা জিরোপয়েন্ট সহ আরও অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে।

Tetulia
Idrakpur Fort

ইদ্রাকপুর দুর্গ:

মুন্সীগঞ্জ শহরের ইদ্রাকপুরে অবস্থিত ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। মুঘল ও পর্তুগিজ জলদস্যুদের আক্রমণ থেকে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জকে রক্ষা করার জন্য দুর্গটি নির্মিত হয়েছিল।

নীলগিরি:

নীলগিরি দেশের সর্বোচ্চ পর্যটন কেন্দ্র। এটি বান্দরবানের থানচি উপজেলায় অবস্থিত। মেঘের সাথে মিশে মেঘকে স্পর্শ করার সুযোগ আছে। শুষ্ক মৌসুমে নীলগিরিতে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত আশ্চর্যজনক।

Nilgiri
Lawachara

লাউয়াছড়া বন:

ঘন জঙ্গলের মধ্য দিয়ে কেটে গেছে পাহাড়ি রাস্তা। দুই পাশে সারি সারি গাছ। এর মধ্য দিয়ে মধ্যাহ্ন বা সোনাঝরা সকাল বা বিকেলের নরম আলো লাউয়াছড়াকে আরও লোভনীয় করে তুলেছে। এই বন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত।

ষাট গম্বুজ মসজিদ:

ষাট গম্বুজ মসজিদ, ষাট গম্বুজ মসজিদ নামেও পরিচিত, এটি সুলতানি আমলে নির্মিত বৃহত্তম মসজিদ। মসজিদ সাধারণত নামাজের জন্য ব্যবহৃত হয়।

Sixty Dome Mosque
Kuakata

সাগরকন্যা কুয়াকাটা:

সাগরকন্যা কুয়াকাটা অপরূপ সৌন্দর্যের সবুজ ভূমি। কুয়াকাটা দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র সমুদ্র সৈকত যেখানে আপনি দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখতে পারবেন। নিঃসন্দেহে সমুদ্রের পেটে সূর্য উদিত হওয়া এবং সূর্যকে সমুদ্রের বুকে অদৃশ্য হওয়া দেখতে পাওয়া অনেক বড় ব্যাপার।

পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত:

পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত চট্টগ্রামে অবস্থিত। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বিখ্যাত সৈকত। প্রকৃতি প্রেমীদের জন্য এটি সেরা গন্তব্য। নিজেদের সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে তারা তাদের পরিবারের সাথে এখানে ভ্রমণ করেন। এটি পর্যটকদের কাছে একটি জনপ্রিয় স্থান।

Patenga beach
Bangabandhu Safari Park

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক:

গাজীপুরে প্রতিষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক দেশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান। আপনি এই জায়গা দেখতে পারেন অনেক জীবন্ত পশু -পাখি

বিরিশিরি:

বিরিশিরি বাংলাদেশের নেত্রকোনা জেলার একটি ঐতিহ্যবাহী গ্রাম। এটি একটি অতুলনীয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দেশ। বিরিশিরির প্রধান আকর্ষণ বিজয়পুর চীনামাটির খনি। সাদা মাটি পানির রঙকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তোলে।

Birishiri
Cumilla

কুমিল্লা:

কুমিল্লার শালবন বৌদ্ধ বিহার বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতার একটি। কুমিল্লা জেলার লালমাই-ময়নামতি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানটিতে পাখিসহ বহু প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে এবং অন্যান্য অনেক আকর্ষণ রয়েছে।

জাফলং:

সিলেটের জৈন্তিয়া পাহাড়ের মনোরম দৃশ্য, জাফলং -এর শ্বাসরুদ্ধকর সৌন্দর্য, ভোলাগঞ্জে পাথরের সারি বার বার পর্যটকদের আকর্ষণ করে। শীতের হিমশীতল আবহাওয়া ভ্রমণকারী এবং পর্যটকদের মনে একইভাবে দোলা দেয়।

Laflong
Sonargaon

প্রাচীন সোনারগাঁও:

এই মুঘল সাম্রাজ্যের অবস্থান ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জে পাঁচটি পীর দরগা, প্রাচীন পানাম নগর, নীলকুঠি এবং অন্যান্য অনেক প্রাচীন স্থাপনা রয়েছে।

লালবাগ কেল্লা:

লালবাগ কেল্লা মুঘল আমলের স্থাপত্য নিদর্শন। সপ্তদশ শতাব্দীর শেষার্ধে নির্মিত এই দুর্গের মধ্যে রয়েছে পরীবিবির মাজার, দরবার হল, হাম্মাম, মসজিদ, দুর্গ ইত্যাদি। লালবাগ কেল্লা বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত।

Lalbagh Fort
Ahsan Manzil

আহসান মঞ্জিল:

এই প্রাচীন সাম্রাজ্যের অবস্থান বুড়িগঙ্গার তীরে কুমারটুলি এলাকায়। এই মঞ্জিল দুটি ভাগে বিভক্ত, রংমহল ও অন্দরমহল। প্রাসাদের উপরে রয়েছে অনেক সুন্দর গম্বুজ। এখানে একটি জাদুঘরও রয়েছে।

কোথায় থাকবেন এবং কি করবেন?

কোথায় থাকবেন? গন্তব্য নির্বাচন করুন।

এই প্রাচীন সাম্রাজ্যের অবস্থান বুড়িগঙ্গার তীরে কুমারটুলি এলাকায়। এই মঞ্জিল দুটি ভাগে বিভক্ত, রংমহল ও অন্দরমহল। প্রাসাদের উপরে রয়েছে অনেক সুন্দর গম্বুজ। এখানে একটি জাদুঘরও রয়েছে।

  • ভ্রমণের জন্য হোটেল বুক করুন।
  • বুকিং করার আগে হোটেল সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিন।
  • হোটেলের মান, ইত্যাদি
  • এগুলো আপনি ইন্টারনেট অনুসন্ধান করেও জানতে পারেন।
  • আপনি যখন কোন হোটেলে থাকবেন তখন বাড়ির লোকদের জানাবেন, তাদের ফোন নম্বরও জানাবেন।
  • আপনি ভ্রমণের সময় গাড়ির নম্বরও সংরক্ষণ করতে পারেন
  • এবং আপনার পরিচিত কাউকে জানাতে পারেন।
  • আপনি ফেসবুকেও পোস্ট করতে পারেন।
  • হোটেলের ফোন নম্বরটি স্পিড ডায়ালে রেখে দিন।
  • রুমে প্রবেশ করুন এবং গোপন ক্যামেরা আছে কিনা তা পরীক্ষা করুন।
  • বাথরুম চেক করুন।
  • হোটেলে সন্দেহজনক কিছু দেখলে সতর্ক হোন।
  • পরিস্থিতি বুঝে তর্ক না করে হোটেল ছেড়ে চলে যান।
  • জরুরী ফোন নম্বর এবং অবস্থান সম্পর্কে আগাম তথ্য সংগ্রহ করুন।
  • যেমন- নিকটতম থানা (পুলিশ), ট্যুরিস্ট পুলিশ হেল্প ডেস্ক নম্বর, হাসপাতাল, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, আবাসিক হোটেল, ব্যাংক ইত্যাদি।
  • সবসময় সাথে থাকুন
  • পানির বোতল রাখুন। সর্বদা জাতীয় পরিচয়পত্রের একটি কপি সঙ্গে রাখুন।
  • ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্ট এবং এমনকি ক্রেডিট কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের ফটোকপি সঙ্গে রাখুন।
  • আপনার সাথে কিছু অতিরিক্ত টাকা রাখুন

শেষকথাঃ

পূর্ব পরিকল্পনার ভিত্তিতে ও পরামর্শের আলোকে ভ্রমনের সিদ্ধান্ত নিন , তাহলে আপনার ও আপনার পরিবারের ভ্রমণ হবে সুন্দর ও প্রাঞ্জল, তবে সঠিক ও পূর্ণ-বিসস্তমূলক গাইডলাইনের জন্য আর পারফেক্ট এবং স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণের প্রয়জনে যোগাযোগ করতে পারেন সাম্পানের সাথে।

Are You Ready?

To explore the world’s longest natural sandy sea beach.

Online Reservation Call for Booking
White Shape White Shape