Call for Booking! +8801974726726

হিমছড়ি ভ্রমণ গাইড | দর্শনীয় স্থান ও থাকা–খাওয়ার ব্যবস্থা

কক্সবাজার মানেই শুধু দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত আর ঢেউয়ের শব্দ নয়—এই শহরের ভেতরেই লুকিয়ে আছে পাহাড়, ঝরনা আর সবুজে ঘেরা এক নীরব স্বর্গ, যার নাম হিমছড়ি। শহরের কোলাহল পেরিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই এখানে পৌঁছে মনে হবে যেন প্রকৃতি নিজ হাতে আপনাকে আলিঙ্গন করে নিচ্ছে। পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা স্বচ্ছ জলের ধারা আর চারপাশের সবুজ পরিবেশ মনকে এনে দেয় এক অনাবিল প্রশান্তি।

হিমছড়ি মূলত একটি পাহাড়ি পর্যটন কেন্দ্র, যেখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এখনো অনেকটাই অক্ষত। এখানে পাহাড়ের ঢাল, ঘন বন আর ঝরনার কলকল শব্দ মিলেমিশে তৈরি করেছে এক স্বতন্ত্র পরিবেশ। যারা ভিড় এড়িয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি কিছু সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য হিমছড়ি নিঃসন্দেহে কক্সবাজারের অন্যতম সেরা গন্তব্য।

এই হিমছড়ি ভ্রমণ গাইডে আমরা জানবো হিমছড়ির দর্শনীয় স্থানসমূহ, কীভাবে সেখানে যাবেন, কোথায় থাকবেন এবং আশেপাশে খাওয়ার কী কী ভালো ব্যবস্থা রয়েছে। আপনি যদি পরিবার, বন্ধু কিংবা একাকী ভ্রমণের পরিকল্পনা করে থাকেন, তাহলে এই গাইডটি আপনার ভ্রমণকে করবে আরও সহজ, গোছানো ও স্মরণীয়।

হিমছড়ি ভ্রমণ গাইড বিস্তারিত জানতে কল করুন: ০১৯৭৪৭২৬৭২৬

হিমছড়ি কোথায় অবস্থিত?

হিমছড়ি পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজার শহরের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে, বিশ্বখ্যাত সমুদ্রসৈকত থেকে মাত্র বিশ-পঁচিশ মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত। পাহাড় ও সমুদ্রের মাঝামাঝি এই অবস্থান হিমছড়িকে দিয়েছে এক বিশেষ ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য। শহরের কোলাহল থেকে খুব বেশি দূরে না থেকেও এখানে এসে পর্যটকরা অনুভব করেন এক শান্ত, সবুজ ও নির্মল পরিবেশ।

ঢাকা থেকে হিমছড়ি কীভাবে যাবেন?

ঢাকা থেকে হিমছড়ি ভ্রমণের প্রথম ধাপ হলো কক্সবাজারে পৌঁছানো। রাজধানী ঢাকা থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব প্রায় ৪১৪ কিলোমিটার। ভ্রমণকারীরা নিজেদের সময়, বাজেট ও স্বাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী বাস, ট্রেন কিংবা বিমানের মাধ্যমে কক্সবাজারে যেতে পারেন। প্রতিটি পথেই রয়েছে আলাদা অভিজ্ঞতা ও সুবিধা, যা যাত্রাকে করে তোলে আরামদায়ক।

বাসে ভ্রমণ করতে চাইলে গাবতলী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে এসি ও নন-এসি কোচ নিয়মিত কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছাড়ে। যারা তুলনামূলক আরামদায়ক যাত্রা চান, তারা এসি কোচ বেছে নিতে পারেন। সময় বাঁচাতে চাইলে বিমানই সবচেয়ে দ্রুত ও সহজ মাধ্যম। কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে ট্যাক্সি বা সিএনজিতে করে ২০–২৫ মিনিটের মধ্যেই পৌঁছে যাওয়া যায় হিমছড়ি পর্যটন কেন্দ্রে।

হিমছড়ি গেলে কোথায় থাকবেন?

হিমছড়ি পর্যটন কেন্দ্রের ভেতরে সরাসরি থাকার ব্যবস্থা সীমিত হলেও এর আশপাশের কক্সবাজার শহর পর্যটকদের জন্য বিস্তৃত ও মানসম্মত আবাসন সুবিধা প্রদান করে। হিমছড়ি থেকে মাত্র ২০-২৫ মিনিটের দূরত্বে কলাতলী ও মেরিন ড্রাইভ এলাকায় রয়েছে হোটেল, রিসোর্ট ও গেস্ট হাউসের অপার সম্ভার, যা হিমছড়ি ভ্রমণকে করে তোলে আরামদায়ক ও সহজ।

একক বা ভ্রমণ গ্রুপ অথবা পরিবার ও দম্পতিদের জন্য সাম্পান বিচ রিসোর্ট এন্ড ক্যাফে একটি জনপ্রিয় পছন্দ। এখানে আধুনিক সুবিধা, স্বচ্ছতা ও আরামদায়ক পরিবেশের সঙ্গে মিলিত হয়েছে সমুদ্রের নৈসর্গিক দৃশ্য। রিসোর্টের কক্ষে থাকলে আপনি হিমছড়ি ঝরনা, পাহাড় এবং সমুদ্র—সবকিছুই চোখের সামনে অনুভব করতে পারবেন। আমাদের আছে বিভিন্ন ধরণের রুম ও স্যুট, যেমনঃ  কাপল ডিলাক্স, ফ্যামিলি ডিলাক্স, ফ্যামিলি স্যুট, এক্সেকিউটিভ শেয়ারিং৮ ব্যাড ডরমিটরি (গ্রুপ এর জন্য উপযোগী)।

নিম্নে সাম্পান বিচ রিসোর্ট এন্ড ক্যাফে-র প্রধান সুযোগ সুবিধা তুলে ধরা হলঃ

হিমছড়িতে কী খাবেন?

হিমছড়ি ভ্রমণের এক অন্যরকম আনন্দ আসে খাবারের স্বাদ থেকে। সাম্পান ক্যাফে এর দেশি ও সামুদ্রিক খাবারের সমৃদ্ধ আয়োজন পর্যটকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ। কক্সবাজার সী বিচ ও হিমছড়ি ভ্রমণের খাবারের মূল আকর্ষণ হলো এর তাজা সামুদ্রিক মাছ ও সীফুড। নিম্নে সাম্পান বিচ রিসোর্ট এন্ড ক্যাফের কয়েকটি জনপ্রিয় ডিশ আলোচনা করা হলঃ

হিমছড়িতে কী খাবেন
  • চিংড়ি কষা: তাজা চিংড়ি ভিন্ন স্বাদের মসলায় ভুনা বা দুধ-মশলায় রান্না করা।
  • লবস্টার কারি: কক্সবাজারের সমুদ্র থেকে তাজা লবস্টার দিয়ে তৈরি ঝাল-মসলাদার কারি।
  • কাঁকড়া ভুনা: লাল কাঁকড়া ভিন্ন মসলায় ভুনা, সাধারণত ভাতের সঙ্গে খাওয়া হয়।
  • রূপচাঁদা মাছের ভুনা: সমুদ্রের ছোট ও রঙিন মাছ, ঝাল-মসলাদার ভুনা বা তেলে ভাজা করে পরিবেশন করা হয়।
  • মেজবান গরুর মাংস: কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিখ্যাত মাংস রান্না, সাধারণত ভাত ও স্থানীয় মশলার সঙ্গে পরিবেশন।
  • নারকেল দুধে রান্না করা মাছ/চিংড়ি: স্থানীয় স্বাদের একটি জনপ্রিয় পদ, যেখানে নারকেল দুধ মাছ বা চিংড়ির সঙ্গে মিশিয়ে রান্না করা হয়।
  • ভুনা খিচুড়ি: ভাত ও ডালের সঙ্গে মশলা দিয়ে ঝাল বা মিষ্টি স্বাদের খিচুড়ি।
  • ফ্রাইড ফিশ: তাজা মাছ ভাজা করে পরিবেশন, সাধারণত হালকা নাস্তার জন্য উপযুক্ত।
  • সী ফুড স্যান্ডউইচ: সমুদ্রপথের কফি শপ ও ক্যাফেতে পাওয়া যায় সীফুড স্যান্ডউইচ।
  • স্থানীয় মিষ্টি: যেমন নারকেল লাড্ডু, চিনি বা মিষ্টি দুধের তৈরি স্থানীয় মিষ্টি।

হিমছড়ি ভ্রমণের সেরা সময় ও প্রয়োজনীয় টিপস

হিমছড়ি ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হলো অক্টোবর থেকে মার্চ মাস। এই সময় আবহাওয়া শীতল ও মনোরম থাকে, যা পাহাড়ি ট্রেকিং এবং ঝরনা দর্শনের জন্য আদর্শ। বর্ষাকালে (জুন–আগস্ট) ঝরনার সৌন্দর্য অত্যধিক প্রাণবন্ত হয়, তবে খাড়া ও পিচ্ছিল পাহাড়ি পথের কারণে ভ্রমণ কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। প্রয়োজনীয় টিপস:

  • আরামদায়ক পোশাক ও জুতা ব্যবহার করুন: পাহাড়ি ও বনভূমির পথ হাঁটার সময় স্লিপার বা খোলা জুতা না পরাই ভালো।
  • পর্যাপ্ত পানি ও খাবার সঙ্গে রাখুন: পাহাড়ি হাঁটাহাঁটির সময় হালকা খাবার ও পানি সঙ্গে থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
  • পরিবেশ সচেতন হোন: ঝোপ-ঝাড়ে বা নদীর তীরে কোনো প্লাস্টিক বা আবর্জনা ফেলবেন না।
  • সকাল বা বিকেলের দিকে পৌঁছান: দিনের অর্ধেক সময় ভ্রমণ করা নিরাপদ এবং সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য উপভোগ করা যায়।
  • ছোট ছোট ট্র্যাকিং এর জন্য গাইড নিতে পারেন: যারা প্রথমবার হিমছড়ি যাচ্ছেন, তাদের জন্য স্থানীয় গাইড সুবিধাজনক।
  • ফটো ক্যামেরা বা স্মার্টফোন প্রস্তুত রাখুন: পাহাড়, ঝরনা ও সমুদ্রের অসাধারণ দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করার সুযোগ মিস করবেন না।

নোট: এই টিপসগুলো অনুসরণ করলে আপনার হিমছড়ি ভ্রমণ হবে নিরাপদ, আরামদায়ক এবং স্মরণীয়।

ঘুরে আসুন হিমছড়ি

হিমছড়ি কক্সবাজারের প্রকৃতির এক অপরূপ উপহার। পাহাড়, ঝরনা, সবুজ বনভূমি এবং সমুদ্রের কাছাকাছি এই জায়গা ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য সত্যিকারের স্বর্গ। হিমছড়ি ভ্রমণ শুধু চোখের আনন্দ নয়, বরং মনকে দেয় শান্তি, শহুরে জীবনের ক্লান্তি দূর করার সুযোগ।

যারা প্রকৃতির সঙ্গে কিছুটা সময় কাটাতে চান, পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, অথবা একাকী শান্তিপূর্ণ অভিজ্ঞতা খুঁজছেন, তাদের জন্য হিমছড়ি আদর্শ। এখানকার দর্শনীয় স্থান, পাহাড়ি ট্রেইল, ঝরনা, সমুদ্র দৃশ্য এবং স্থানীয় খাবার ভ্রমণকে করে তোলে আরও স্মরণীয়। তাই সময় নস্ত না করে আজই বুকিংয়ের জন্য সাম্পান বিচ রিসোর্টের সাথে যোগাযোগ করুন।

কক্সবাজার ভ্রমণ সম্পর্কিত সাধারণ জিজ্ঞাসা

হিমছড়ি কক্সবাজার শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। সমুদ্রসৈকত থেকে মাত্র ১০/১১ কিলোমিটার দূরে এই পাহাড়ি পর্যটন কেন্দ্র। এখানে পাহাড়, ঝরনা ও সবুজ বনভূমি মিলিত হয়ে এক অপূর্ব প্রাকৃতিক দৃশ্য উপহার দেয়।

ঢাকা থেকে হিমছড়ি যেতে বিমান, বাস বা ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করা যায়। বিমানে সময় লাগে মাত্র ১ ঘণ্টা, বাসে ১০–১২ ঘণ্টা। কক্সবাজার পৌঁছে ট্যাক্সি বা সিএনজি দ্বারা হিমছড়িতে যাওয়া যায়।

হিমছড়ির প্রধান আকর্ষণ হলো হিমছড়ি ঝর্ণা, পাহাড়ি ট্রেইল, হিমছড়ি জাতীয় উদ্যান, ক্রিসমাস ট্রি এবং লাল কাঁকড়া। এছাড়া কাছেই রয়েছে কক্সবাজার ও ইনানী সৈকত এবং মেরিন ড্রাইভ।

হিমছড়িতে প্রবেশের জন্য সাধারণত ২০–৫০ টাকা ফি নেওয়া হয়। এটি সময় ও পর্যটন কর্তৃপক্ষভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। এই ফি সাধারণত ঝরনা ও পাহাড়ি ট্রেইল ব্যবহারের জন্য প্রযোজ্য।

হিমছড়ির আশেপাশে বাজেট থেকে লাক্সারি হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। বিশেষ করে সাম্পান রিসোর্ট নিরাপদ ও আরামদায়ক থাকার জন্য জনপ্রিয়। এছাড়া কলাতলী ও মেরিন ড্রাইভের হোটেলগুলোও সুবিধাজনক।

হিমছড়ির আশেপাশে রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফে রয়েছে। এখানে পাওয়া যায় চিংড়ি, কাঁকড়া, লবস্টার, মাছের কারি, মেজবান মাংস এবং স্থানীয় মিষ্টি। মেরিন ড্রাইভে হালকা খাবার ও কফিও পাওয়া যায়।

অক্টোবর থেকে মার্চ মাস হিমছড়ি ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। বর্ষাকালে ঝরনার সৌন্দর্য বেশি হলেও পাহাড়ি পথ পিচ্ছিল হওয়ায় সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

পাহাড়ি ট্রেইলের জন্য আরামদায়ক জুতা এবং হালকা, আরামদায়ক পোশাক পরা ভালো। বর্ষাকালে জলরোধী জুতা বা স্যান্ডেল ব্যবহার করলে নিরাপদ ভ্রমণ সম্ভব।

ছবি তোলার জন্য সবচেয়ে ভালো জায়গা হলো হিমছড়ির পাহাড়, ঝরনা ও ক্রিসমাস ট্রি। পাহাড়ি ভিউ পয়েন্ট থেকে সূর্যাস্ত, সমুদ্র ও সবুজ বন একসঙ্গে ক্যামেরাবন্দি করা যায়।

হ্যাঁ, হিমছড়ি পরিবারসহ ভ্রমণের জন্য নিরাপদ। তবে শিশুদের পাহাড়ি ট্রেইলে সতর্কভাবে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। সকালে বা বিকেলের দিকে যাওয়াই সবচেয়ে সুবিধাজনক।

TESTIMONIALS

What Customers Say

Farah Hussain

Traveler

Best service!! Very efficient and well-mannered!
“The food was fresh and delicious. If you like quiet surrounding it’s the perfect place. Very safe for families! The pics of the resorts are actual! A bit of a walk to the beach, but it was worth it as the water was clean, and literally had the beach to ourselves.”

Sabbir Sohan

Google Local Guide

Food and nature make an amazing experience
“To be honest most of the restaurants in Cox's Bazar are good and maintain a similar quality, the only exception is their price and service quality. I've been to sampan beach resort only once, I like their food, and the location is a bit too far from the main town but the surrounding nature is really good.”

Are You Ready?

To explore the world’s longest natural sandy sea beach.